– আরে! তুই কবে এলি কোলকাতা? দূর থেকে চেনাই যাচ্ছিল না। কত বছর পর দেখছি তোকে। কত রোগা লাগছে। কেমন আছিস?
– হুম, শরীর ঝরেছে বটে। এমনিতে সব ভালই। কোলকাতা ফিরে এসেছি প্রায় দু’বছর হতে চলল। তোর খবর বল।
– আমি আছি ভালই। অনেকদিন পর তোকে দেখে ভাল লাগছে বেশ।
ইতিমধ্যে একটা ডাক শোনা গেল।
– (একটু দূর থেকে) মহুয়া, সামলাও দীপ্ত কে। মা কোথায় বলে পাগল করে দিল। (এবার কাছে এসে) এই নাও, প্যাক করা হয়ে গিয়েছে। সাবধানে ব্যাগে ভরে নাও।
– ও! পরিচয় করিয়ে দি। ইনি আমার বর, শশাঙ্ক আর এই আমার বন্ধু…
কথা শেষ করতে পারল না মহুয়া। চার বছর বয়সী ছোট দীপ্ত তার মায়ের হাত ধরে টানতে লাগল।
– মা, চল না। পিয়ু কেক কাটবে। চল না।
– আমার ছেলের বন্ধুর জন্মদিন। সেখানেই যাচ্ছি। তুই একদিন আয় আমাদের বাড়িতে।
যাওয়ার আগে হাত নাড়ল মহুয়া ও তার ছেলে। শশাঙ্ক হেসে হাত মেলাল।
– আপনার সাথে ঠিক ঠাক পরিচয় হল না। আসবেন পারলে আমাদের বাড়ি। আমাদেরও খুব একটা কারো সাথে আড্ডা দেওয়া হয়না। মহুয়ার ভাল লাগবে।
এই অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে নিজে তেমন কিছুই বলতে পারেনি। স্থম্ভিত হয়ে খানিক ক্ষণ দাড়িয়ে থাকল সে। তারপর মুচকি হেসে বাড়ির পথে রওনা দিল দীপ্ত মুখার্জী।
