মানব জন্ম সর্বোচ্চ, এই সবার ধারণা
কিন্তু মানব হয়ে বুঝলাম, বিস্তর তার তাড়না
প্রথম বছর কেটে গেল, কোলে কোলে ঘুরে
বিনা কষ্টে চলে যাও, চাও যত দূরে।
হামাগুড়ি দিতে দিতে সেখা হল হাঁটা
মাঝে মাঝে পড়ে গিয়ে কেটে যেত পা টা
দু বছর বয়স তখন, সরস্বতী পূজোর দিন
লিখলাম প্রথম বার, ‘অ আ ক খ’ ‘১ ২ ৩’।
এরপর শুরু হয় মগজের ধোলাই
সাথে এসে জুটে গেল লেখাপড়ার বালাই
স্কুল নামের চিড়িয়াখানায় শুরু হল যাওয়া
পরিক্ষা নামের জিনিস টা প্রায়ই করে ধাওয়া।
বাড়িতে শুধু এক কথা, “ভাল নম্বর চাই”
একটু এদিক ওদিক হলেই, এক গাদা দুরছাই
খুব ভাল যদি ভাব আমায়, এটাও বলে রাখি
এত পড়ার মাঝেও আমি মেরেছি প্রচুর ফাঁকি।
বন্ধুদের সাথে খেলা হত, ক্রিকেট আর ফুটবল
তবে কোনদিন সিনেমা যাইনি কিংবা কোনও শপিং মল
প্রতি বছর দুর্গা পুজোয় কিংবা পয়লা বৈশাখে
করেছি কত হই-হুল্লড়, বেঁধে আমায় কে রাখে।
এবার এল দশম শ্রেণি, জীবনের প্রথম ফাঁড়া
আর কিছুতে মন দেব না, কেবল পড়া ছাড়া
দেখতে দেখতে দ্বাদশ শ্রেণি, স্কুল জীবনের শেষ
এই ফাঁড়াও কাটিয়ে দিলাম, লাগল কিন্তু বেশ।
পড়াশোনা শেষ হয়নি, যেতে হবে কলেজ
বিজ্ঞ বিজ্ঞ প্রফেসর সেখানে, কতই না তাদের ‘নলেজ’
এমন এমন বিষয় সেথায়, ভাল কিছুই লাগে না
যতই ভাবি, “একটু পড়ি”, ইচ্ছেটা আর জাগে না।
তবে কলেজের ক্যান্টিনে, আড্ডাটা বেশ জমত
কোথাকার সব বিষয়গুলি, কোথায় গিয়ে থামত!
বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরনো, উল্টো পাল্টা খাওয়া
কলেজ জীবনের সব কিছু মাঝে, এটাই বড় পাওয়া।
চারটি বছর কেটে গেল, করলাম কলেজ পাশ
গ্র্যাজুয়েট তো হয়ে গেলাম, এবার আসল বাঁশ
চাকরি একটা পেতে হবে, যা কপালে জোটে
অফিস-অফিস ঘুরলাম শুধু, ঠাকুরের নাম ঠোঁটে।
শেষমেশ এক কারখানাতে, চাকরি একটা পেলাম
অল্প বেতন, তাও ভাল, সেখানেই কাজে গেলাম
এর মধ্যেই বাড়িতে উঠল, বিয়ে-বিয়ে রব
পাত্রি খোঁজে লেগে পরল, গুষ্টি সুদ্ধ সব।
শেষে কোন অচিনগ্রামে, বিয়ে হল ঠিক
আমি ছাড়া সব আহ্লাদিত, শুধু হাসি ‘খিক-খিক’
ছয় হাজার মোটে বেতন আমার, কোনও মতে চলে
এরই মাঝে আবার একজন ঢুকে গেল দলে।
বিয়ে হল, খোকাও হল, পূর্ণ হল জীবন
কর্মক্ষেত্রে উন্নতি হল, মাতল আমার ভুবন
এভাবেই আরও বছর ত্রিশ, নিমেষে গেল কেটে
চাকরি থেকে অবসর নিলাম, ক্লান্ত আমি খেঁটে।
তবে এবার জানতে পারছি, জীবনের আরেক রুপ
বয়েসের কোপে হয়েছি এখন জড়সড় এক স্তূপ
বউ ব্যাস্ত, ছেলে ব্যাস্ত, কে আর খবর নেয়
যা কিছু পুঁজি ছিল, ওষুধে হল ব্যায়।
হটাৎ একদিন বুকের ভিতর, উঠল খুব ব্যাথা
শীতকালেও ঘাম ছুটল, ভিজে গেল কাঁথা
এরপর যখন হুঁশ এল, দেখি সবাই কাঁদে
সবার চোখে জল ছলছল, শুধু আমি বাদে।
এভাবেই মানব জীবন হয়ে গেল শেষ
এই সবে কাল শ্রাদ্ধ হল, কাটেনি এখনও রেশ
জানি এই কবিতা আমার পছন্দ কেউ করবে না
মাথা খারাপ না হলে, এই লেখা কেউ পড়বে না।
তবুও আমি আশা রাখছি, একটু কষ্ট করে
আমার এই প্রচেষ্টা, দেখবেন একটু পড়ে
আমাদের এই মানব জীবন সুখ-দুঃখে ভরা
আমিও না হয় খেলার ছলে, লিখলাম একটু ছড়া।
