বেড়াতে যাওয়া

শোন বন্ধু বলি তোমায় মজার এক ঘটনা
একটু বাড়াবাড়ি হলেও, তা নয় কোন রটনা।
গত বছর মে মাসের গরমের এক দিনে
কালু গুন্ডা বউয়ের সাথে যাবে ভাবল চিনে।

তার আগে বলা ভাল, কালু কেমন লোক
ছোটবেলায় ছিল না তার লেখাপড়া-য় ঝোঁক।
তার চিরশত্রু ছিল – খাতা, পেন, বই
তাই তার ভরসা এখন শুধু টিপসই।

লেখাপড়া না জানলেও, পকেট ছিল না ফাঁকা
হটাত কন লটারিতে, পেল প্রচুর টাকা।
সেই টাকার জন্য তার হল প্রচুর নাম
সব কেনার ক্ষমতা হল যতই হক দাম।

কিন্তু তার পাশাপাশি দিন গেল যত
স্বভাবগুলি হয়ে গেল গুণ্ডাদের মত।
লাভ করার কোন সুযোগ, সে যদিও ছাড়ে না
তবুও কাউকে কখনও, সে প্রাণে মারে না।

এরই মধ্যে সেরে ফেলল কালু নিজের বিয়ে,
এবার তার বেড়ানোর ইচ্ছা বউকে সঙ্গে নিয়ে।
ভাগ্নেটি তার বড় ভাল; টিকিট এনে দিল
তবে সে বলতে ভুলে গেল, টিকিট কোথাকার ছিল।

কালু বেচারা মূর্খ মানুষ, বুঝতে কিছুই পারল না
তবুও কাউকে জিজ্ঞেস করার, সে ধার ধারল না।
চিনের শুধু নাম শুনেছে আর জানে না কিছু
তাই বলে কি কালুর মাথা হয়ে যাবে নিচু?

বউকে সে গল্প করল, বয়স যখন তার তেরো,
চিনে গিয়ে দেখেছিল পিরামিড আর ফ্যারো।
বউ তো আবার স্বামীর থেকে আরও বেশী জানে
বলে নাকি তাজমহল, চারমিনার আছে ওখানে।

বাইরে তারা কি খাবে তা নিয়েও চিন্তা
টকে অম্বল, ঝালে হেঁচকি, গ্যাস হয় খেলে নোনতা।
মিষ্টির কথা বললাম না কারণ, এই তো গত মাসে
বাঙাল বদ্যি বলে গেল, ‘কালুর সুগার আসে’

তারিখটা কালুর মনে ছিল – বাইশে মে
তাই সেদিন চিনের পথে বেড়িয়ে পড়ল সে।
যাবার সময় কালু বলল সবকিছু সে চেনে,
ভুল করে উঠল গিয়ে আমেরিকার প্লেনে।

কিছুক্ষণ পরে প্লেনটি যখন উড়ে গেল আকাশে,
কালু হটাৎ খেয়াল করল, বউ নেই তার পাশে।
জিজ্ঞেস করতে, আগের সিটের, এক যাত্রীর কথায়
আসল ব্যাপার জেনে কালুর চোখ উঠল মাথায়।

চিৎকার আর কান্না – কালু দিল জুড়ে
কোথায় তার যাওয়ার কথা, যাচ্ছে সে কোন দূরে।
পাইলটটি ভাল মানুষ; কালুর কথা শুনে
মাঝপথেই প্লেনটিকে নামাল দেরাদূনে।

সেখান থেকে আরেক প্লেনে ফিরল যখন কালু
কাঁদতে-কাঁদতে মুখটি তার হয়ে গিয়েছিল আলু।
বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আট ঘণ্টা পরে,
কালু গুন্ডা ফিরে এল আবার নিজের ঘরে।

ফেরত আসার সময় যখন নামল সে দমদমে,
নিজের বউকে হাঁসতে দেখে মুখ হল থমথমে।
এত দুঃখ, এত লজ্জা পায়নি কখনও আগে
বুঝতে পারল লেখাপড়া কিভাবে কাজে লাগে।

ভাবল সে, চাইলে আমি এখনও পড়তে পারি
না হয় অন্য ছাত্রদের চেয়ে ঘন আমার গোঁফ-দাঁড়ি।
ভাতের সাথে যদি চেবাতে পারি, রুই-কাতলার মুড়ো,
পড়া আমার হবে না কেন? হইনি এখনও বুড়ো।

বোমা, গুলি যা ছিল, সব গঙ্গা জলে ফেলে
কালু এখন বসে থাকে বই-খাতা মেলে।
প্রশ্নপত্র-সরঞ্জামে আলমারি তার ঠাসা
কালু এবার শুধরে যাবে, এটাই সবার আশা।

Leave a comment